ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 12 বার পঠিত

দুই সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না ২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহ। অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে অভিষেকেই মাত্র চার বলের মধ্যে জো রুটকে আউট করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মারদানের এই তরুণ পেসার।
তবে রাজাউল্লাহর ইংল্যান্ড যাত্রার গল্পটিও কম নাটকীয় নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টেস্টের দলে ডাক পাওয়ার সময় তার কাছে কোনো পাসপোর্টই ছিল না।
নির্বাচকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কারণ, জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার সময় নিজের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন রাজাউল্লাহ। তার ফোনও ছিল বন্ধ।
সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় তাকে খুঁজে বের করতে গ্রামের বাড়িতে একজন কোচকে পাঠানো হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট তৈরি ও ইংল্যান্ডের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানে করে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে।
ইংল্যান্ডে পৌঁছেও বিশ্রামের সুযোগ পাননি রাজাউল্লাহ। এজবাস্টনে তাকে সরাসরি একাদশে নামিয়ে দেওয়া হয়।
মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্যের জানান দিতে অবশ্য বেশি সময় নেননি তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ বলেই ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুটকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান এই ডানহাতি পেসার।
প্রথম দুই ওভারে ঘণ্টায় ৯২ মাইল পর্যন্ত গতি তুলেছিলেন রাজাউল্লাহ। তার কোনো বলই ৮৯ মাইলের নিচে ছিল না। দিনের শেষভাগে ফিরে এসে আরও একবার আঘাত হানেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরি করে সেট হয়ে যাওয়া ইংলিশ ওপেনার এমিলিও গেকেও বোল্ড করেন।
প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। পাকিস্তানের ১৩৩ রানের জবাবে ২৩ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পারফরম্যান্স না হলেও রাজাউল্লাহর অভিষেক পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। তার বোলিংয়ে দেখা গেছে গতি, আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস।
বড় ক্রিকেটে রাজাউল্লাহর পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। গত নভেম্বরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে পেশোয়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এর আগে মারদান জেলা দলের হয়ে ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
কোয়েটায় একটি অনানুষ্ঠানিক টুর্নামেন্টে তার প্রতিভা নজরে পড়ে পেশোয়ার অঞ্চলের কোচ আব্দুল রেহমানের। পরে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে রাজাউল্লাহর বোলিং দেখে মুগ্ধ হন পিসিবির হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ।
এরপর আগস্টের শেষদিকে পিসিবির ফাস্ট-বোলিং ক্যাম্পে ডাক পান তিনি। জাতীয় দলের কাঠামোর সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া ১২ জন পেসারের একজন ছিলেন রাজাউল্লাহ।
বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পাওয়া এই তরুণের আন্তর্জাতিক অভিষেকটা তাই ছিল নাটকীয়তায় ভরা। গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে খুঁজে বের করে বিমানে তুলে দেওয়া—তারপর ইংল্যান্ডে পৌঁছে মাত্র চার বলেই জো রুটের উইকেট।
রাজাউল্লাহর গল্প যেন বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে পৌঁছাতে কখনো কখনো সময় লাগে মাত্র কয়েকটি বল।
Posted ২:৪৪ এএম | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।